ব্যতিক্রম ছাত্রনেতাদের কথা । পর্ব-১

ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার- টুডে ট্রিবিউন।।

বর্তমানে বেশিরভাগ ছাত্র নেতাদের উদ্দেশ্যই থাকে ভালো কোন পজিশন, ক্ষমতা, আর্থিকভাবে সচ্ছলতা অর্জন করা। সেই সাথে আরো অনেক সুবিধা পাওয়ার জন্যই অনেকে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন। কিন্তু আপনি আমি হয়তো জানি না যে এর ব্যতিক্রমও অনেক আছে। হা আজ আপনাদেরকে এমনই একজন ব্যতিক্রম ছাত্র নেতার কথা বলবো যিনি কিনা অনেক সময় তার রাজনৈতিক খরচও বহন করেন টিউশনির টাকা দিয়ে। বিশ্বাস হচ্ছে না! চলুন আরো কিছু জানা যাক তার সম্পর্কে।

নামঃ ইউনুছ সিকদার
জন্মঃ ১ সেপ্টেম্বর ১৯৮৮ খ্রিঃ, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন
সাবেক সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
ছাত্র সংগ্রাম পরষিদের অন্যতম সদস্য।

এই মানুষটির সাথে চলতে গিয়ে দেখেছি তার মানসিকতা কত উচু মানের। কখনো অন্যায়ের সাথে আপোষ করতে দেখিনি তাকে। বর্তমান ছাত্র রাজনীতির সাথে তার রাজনৈতিক চিন্তার অনেক পার্থ্ক্য। রাজনীতি থেকে তার পাওয়ার কোন মোহ দেখিনি। এখনো সে তার থাকা ও খাওয়ার খরচ বহন করেন টিউশনি করে।  আমি যতটুকু জানি ও দেখেছি যে অনেক সময় তার রাজনৈতিক খরচও বহন করেন টিউশনির টাকা দিয়ে। কখন পার্টি থেকে কোন সহযোগিতা নেননি বা নিতেও দেখিনি।তাকে জিজ্ঞাষা করে দেখেছি রাজনীতি থেকে আপনার চাওয়া কী? সহজ উত্তর – “সবার ভালবাসা। আমার অন্যসকল চাওয়া আল্লাহ পূরণ করবেন”। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার সততা এবং রাজনৈতিক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

Emon Photo

বর্তমান ছাত্র রাজনীতিতে যারা অন্তভূক্ত তাদের বেশিরভাগই একটি নির্দিষ্ট লক্ষে রাজনীতি করে থাকেন । তারমধ্যে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি লক্ষনীয় তা হচ্ছে ব্যক্তি কেন্দিক রাজনীতি। কিন্তু রাজনীতিতে আমার দেখা ব্যতিক্রম এক ছাত্রনেতা হলেন ইউনুছ সিকদার, যাকে কখনই ব্যক্তি চিন্তার সাথে এক করা যায় না। বাম ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত এই ছাত্র নেতার সাথে কথা বলে দেখেছি নিজেকে সর্বদা অন্যের মধ্যে নিহিত রাখতেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। তার কাছে অন্যের চাহিদার গুরুত্ব বেশি। রাজনীতি করে অনেক টাকা পয়সা ইনকাম করতে হবে অথবা এখান থেকে ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে এধরনের চিন্তা তাকে কখনো করতে দেখা যায়না। সবাইকে নিয়ে তার চিন্তা চেতনার দিকটি সমাজের মানুষের কাছে বিশেষ করে ছাত্রদের কাছে তার গ্রহনযোগ্যতাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য স্থানে। সমাজ, দেশ, দেশের মানুষ এই সব তার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু, কখনো মানবিকতা কখনো পরোপকারিতা এই নিয়েই তার সময় পার করে দেয়া। নিজ প্রয়োজনে কখনো রাজনীতিকে ব্যবহার করেননি।

তাকে জিজ্ঞাসা করে জানা যায় যখন তার বয়স ১২ বছর তখন থেকেই সে এলাকার বড় ভাইদের সাথে রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়। ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে প্রথমে বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের সদস্য, পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি।এরপর বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ।তিনি মনে করেন ছাত্র রাজনীতে তাদের আসা উচিত নয় যারা সমাজ, দেশ ও দেশের যুবসমাজের কথা চিন্তা করেনা। যারা শুধু নিজেকে নিয়ে সর্বদা চিন্তায় মগ্ন থাকে তাদেরকে রাজনীতি থেকে তিনি দূরে থাকার আহ্বান জানান।তার মতে ছাত্র রাজনীতি হওয়া উচিত আগামী প্রজন্মের জন্য এক সুন্দর ও সম্ভাবনাময়ের।

হ্যা, আমি বলছি না যে এরকম ছাত্র  নেতা আর নেই। অবশ্যই আছে। নয়তো যুগে যুগে এই সোনার বাংলাদেশের বড় বড় অর্জনগুলো এই ছাত্রদের হাত ধরে আসত না। অভিনন্দন সেই সকল সৎ ও নীতিবান ছাত্র নেতাদের। কারন তাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে আগামীর ছাত্র রাজনীতি।

Check Also

১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস

১৪ ডিসেম্বর- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিন। আজ …

Leave a Reply