পুলিশের সঙ্গে অন্তর্বাস পরা কে এই অস্ত্রধারী

আজ রাজধানীর পোস্তগোলায় শ্রমিক-পুলিশের সংঘর্ষের সময় অন্তর্বাস পরা এক অস্ত্রধারীর ছবি প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ দাবি করছে, তারা এই ব্যক্তির পরিচয় জানেন না। যদিও ওই অস্ত্রধারীর অবস্থান পুলিশের পাশেই ছিল। সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি পরা ওই অস্ত্রধারীর লুঙ্গি থাকলেও সেটি এক পর্যায়ে খুলে যায়। তখন তার অন্তর্বাস প্রকাশ হয়। এবং পরের একাধিক ছবিতে তাকে অন্তর্বাস পরা অবস্থাতেই দেখা যায়।

পুলিশের সঙ্গে অন্তর্বাস পরা অস্ত্রধারী

একটি ছবিতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি একটি বড় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাঁটছেন, গুলিও করছেন। তার পেছনেই পোশাকধারী পুলিশকেও একই ধরনের অস্ত্র তাক করে সতর্ক ভঙ্গিতে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে অন্য একটি ছবিতেও দুই জন অস্ত্রধারী পুলিশের সঙ্গে ওই অস্ত্রধারীকে দেখা যায়। সেখানে পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছিল, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে ট্রাকের টোল বাড়ানোর প্রতিবাদে শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয় শুক্রবার সকালে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সোহেল নামে এক শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলিবিদ্ধ হয়ে এক নারীসহ তিন জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে পুলিশ গুলি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বলছে, আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিহত করতে বাইরে থেকে বেশ কিছু অস্ত্রধারী ঢুকেছিল।

এর মধ্যে ছড়িয়ে পরা পুলিশের পোশাকহীন অস্ত্রধারীর ছবিকে বাহিনীর সদস্য হিসেবে মানতে নারাজ ঢাকা জেলা পুলিশের কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) রামানন্দ সরকার। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘পুলিশের সাথে থাকলেও যেহেতু আমরা দেখিনি, দেখলে হয়ত বলতে পারতাম।’

পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে যখন কেউ অস্ত্র নিয়ে থাকে সে কি বাইরের কেউ বা সন্ত্রাসী হতে পারে কি না- এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘না দেখে তো বলা যাবে না। তার কাছে কোন ধরনের অস্ত্র বা সরকারি অস্ত্র কিনা সেটা যাচাইয়ের ব্যাপার আছে। আমি ছবিটা দেখিনি; আমরা ছবি বা টিভি কোন কিছুই দেখিনি সারাদিন।’

পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই বহিরাগত অস্ত্রধারী থাকে কীভাবে, এটা কি আপনাদের ব্যর্থতা নয়?- এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা পুলিশের ব্যর্থতা না। কারও উপর তো পুলিশ কখনও অস্ত্রের প্রয়োগ করে না বা প্রাণহানিতে অংশ নেয় না। পুলিশ মানুষের সার্ভিসের জন্য। পুলিশ এই ঘটনার সময় একটা পর্যায়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। এমনকি চারপাশ থেকে তাদের উপর হামলা করা হয়েছিল। বহিরাগতরা বিভিন্ন লাঠি, ইটপাটকেল ছুড়ছিল। আমাদের ওসির উপর ট্রাক চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। পুলিশ তো অ্যাকশনে যায়নি। ধৈর্য সহকারে সেটা প্রতিহত করেছে।’

গত আগস্টেও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে পুলিশের পাশেই লুঙ্গিধারী যুবকদেরকে দেখা গিয়েছিল যারা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ইটের টুকরো ছুড়ে মারছিল। তখনও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

Check Also

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে মেয়র আতিকুল

শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে চলে গেলেন মেয়র আতিকুল

রাজধানীর নর্দ্দায় বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর সড়ক অবরোধ করেছেন তার সহপাঠিরা। …

Leave a Reply